ব্রেকিং:
‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সারাদেশেই চলবে’ প্রমাণ পেলে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হাজীগঞ্জ উপজেলার ইছাপুরা গ্রামে নেমেছে শোকের ছায়া ব্যতিক্রম ওসি! জানুন বিস্তারিত মতলবে খাদেরগাঁও বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের উদ্বোধন নারীদের যেভাবে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে হাইমচরে উত্তর ইউনিয়ন কৃষকদলের সম্মেলন অনুষ্ঠিত চাঁদপুর মাছঘাটে এতো ইলিশ কোথা থেকে এলো আজ কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটির সাথে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় বাঘড়ায় জমজমাট এই ধরণের ব্যবসা, জানুন বিস্তারিত চাঁদপুরে যেভাবে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনে ফরিদগঞ্জে `বঙ্গবন্ধু উৎসব` শুরু কচুয়ায় আদালতের মাধ্যমে যে অমূল্য সম্পদ ফিরে পেলো অসহায় পারুল বেগম চতুরঙ্গ ইলিশ উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি সভা চাঁদপুরে ৪২৮ কোটি টাকার যেসকল ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন চাঁদপুরে বিদ্যুতের তারের জন্য এ কি হলো মাদরাসা ছাত্রের অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হলে ব্যবস্থা: কাদের ফরিদগঞ্জে নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে সঠিক ধারণা বলাখালে স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক চাঁদা ও শিক্ষার্থী হয়রানি চাঁদপুরে শিক্ষকদের ১১তম ও ১০তম গ্রেডের দাবি

রোববার   ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৭ ১৪২৬   ২২ মুহররম ১৪৪১

দৈনিক চাঁদপুর
সর্বশেষ:
একবছরে পাঁচগুণ মুনাফা বেড়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আমাজন বাঁচাতে লিওনার্দোর ৫০ মিলিয়ন ডলারের অনুদান রাজধানীতে চার জঙ্গি আটক ১৬২৬৩ ডায়াল করলেই মেসেজে প্রেসক্রিপশন পাঠাচ্ছেন ডাক্তার জোরশোরে চলছে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ
৪৫

কারবালার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

পবিত্র আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্ব সমগ্র মুমিন-মুসলমানের কাছে অনেক। কারবালা প্রান্তরে (৬১ হিজরির ১০ মহররম) মহানবী (সা.) এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) এর মর্মান্তিক শাহাদাত বরণ ‘আশুরা’কে আরো গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যমণ্ডিত করেছে। 
ফলে কারবালা ও কারবালা সংক্রান্ত ইতিহাস জরুরি বিষয়ে পরিণত হয়েছে। 

কারবালা সংশ্লিষ্ট ইতিহাস সম্পর্কে অত্যন্ত সংক্ষেপে জুবাইর ইবনে বাক্কার (রহ.) বলেন, হোসাইন ইবনে আলী (রা.) চতুর্থ হিজরির শাবান মাসের ৫ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। আর আশুরার জুমার দিনে ৬১ হিজরিতে তিনি শহীদ হন। তাকে সিনান ইবনে আবি আনাস নাখায়ি হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করে খাওলি ইবনে ইয়াজিদ আসবাহি হিময়ারি। সে হোসাইন ইবনে আলীর মাথা শরীর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে এবং ওবায়দুল্লাহর দরবারে নিয়ে যায়। 

বলাবাহুল্য যে, কারবালার প্রান্তরে সে অশুভ দিনে পাপিষ্ঠরা যে নির্মমতা ও নির্দয়তার পরিচয় দিয়েছে, তা পাষণ্ড হৃদয়েও ব্যথা ও যাতনা সৃষ্টি করে। শাহাদাতের পর হজরত হোসাইন (রা.) এর দেহ মোবারকে মোট ৩৩টি বর্শা ও ৩৪টি তরবারির আঘাত দেখা যায়। শরীরে ছিল অসংখ্য তীরের জখমের চিহ্ন। তার সঙ্গে মোট ৭০ জনকে হত্যা করে ঘাতকরা।

হজরত হোসাইন (রা.) এর সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল খিলাফত ব্যবস্থার পুণর্জীবন। ইয়াজিদের বিরুদ্ধে কুফাবাসীর সাহায্যের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে হোসাইনের (রা.) স্ত্রী, ছেলে, বোন ও ঘনিষ্ঠ ২০০ অনুচর নিয়ে ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কুফার উদ্দেশে রওনা হন। ফোরাত নদীর তীরবর্তী কারবালা নামক স্থানে পৌঁছালে কুফার গভর্নর ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ তাকে বাধা দেন। রক্তপাত ও খুনাখুনি বন্ধের উদ্দেশে হজরত হোসাইন (রা.) তিনটি প্রস্তাব দেন। 

(১) তাকে মদিনায় ফিরে যেতে দেওয়া হোক। 
(২) তুর্কি সীমান্তের দুর্গে অবস্থান করতে দেয়া হোক। 
(৩) ইয়াজিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য দামেস্কে পাঠানো হোক। 
কিন্তু ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদ নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে তার হাতে আনুগত্যের শপথ নিতে আদেশ দেন। হজরত হোসাইন (রা.) ঘৃণা ভরে তার এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন।

অবশেষে ওবায়দুল্লাহ ইবনে জিয়াদের চার হাজার সৈন্যের একটি বাহিনী হজরত হোসাইনকে (রা.) অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং ফোরাত নদীতে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেয়। হজরত হোসাইন (রা.) এর শিবিরে পানির হাহাকার শুরু হয়। তিনি ইয়াজিদ বাহিনীর উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে বলেন, ‘আমি যুদ্ধ করতে আসিনি, এমনকি ক্ষমতা দখল আমার উদ্দেশ্য নয়। খিলাফতের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার আমার কাম্য।’

ইয়াজিদ বাহিনী ১০ মুহাররম তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ অসম যুদ্ধে একমাত্র ছেলে হজরত জায়নুল আবেদিন (রহ.) ছাড়া ৭০ থেকে ৭২ জন শহীদ হন। হজরত হোসাইন (রা.) মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে যান। অবশেষে তিনি শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করেন। হজরত হোসাইন (রা.) এর ছিন্ন মস্তক বর্শা ফলকে বিদ্ধ করে দামেস্কে পাঠানো হয়। ইয়াজিদ ভীত ও শঙ্কিত হয়ে ছিন্ন মস্তক প্রত্যর্পণ করলে কারবালা প্রান্তরে তাকে কবরস্থ করা হয়।

ইতিহাস সাক্ষী, হজরত হোসাইন (রা.)-কে কারবালা প্রান্তরে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে করুণ পন্থায় তাদের প্রত্যেকের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। (সূত্র: কারবালার ইতিহাস, আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.)।)

কারবালার শিক্ষা: 
আশুরার দিন কারবালা প্রান্তরে মানব ইতিহাসের যে নির্মম কাহিনী রচিত হয়েছিল তা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের মজবুত ঈমান। তাই আমাদের ঈমানী চেতনায় বলীয়ান হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

কারবালার প্রান্তরে হজরত হুসাইন (রা.) সপরিবারে আত্মত্যাগ করে সমগ্র বিশ্ববাসীকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন যে, মস্তক আল্লাহর কাছে নত হয়েছে। সে মস্তক কখনো বাতিল শক্তির কাছে নত হতে পারে না। আল্লাহর পথে অটল থাকতে মুমিনরা তাদের জীবনকে উৎসর্গ করতে দ্বিধা করে না। তাই আজকের মুসলমানরা সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শপথ নিতে পারলেই কেবল আশুরার তাৎপর্য প্রতিফলিত হবে।

প্রসঙ্গত মনে রাখা জরুরি, আশুরা মানেই শুধু কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা নয়। আশুরার ঐতিহ্য আবহমানকাল থেকেই চলে আসছে। সুপ্রাচীনকাল থেকে আশুরার ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, ইসলামের আবির্ভাবেরও বহু আগ থেকে।

আল্লাহ তায়ালা হজরত হোসাইন (রা.), তার পরিবার ও বন্ধুজনদের জান্নাতে চির উচ্চ মর্যাদায় আসীন করুন। আমাদের হোসাইন (রা.)-এর মতো সত্য-ন্যায়ের পথ অবলম্বনের তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।

দৈনিক চাঁদপুর
দৈনিক চাঁদপুর
এই বিভাগের আরো খবর