ব্রেকিং:
চার্জে দিয়ে মোবাইলে গেম, প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের কথা ছিল একসঙ্গে নার্স হবেন, হলেন লাশ বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু মাহমুদুল বাঁচতে চায় দুঃসংবাদ জানালো আবহাওয়া অধিদফতর মাশরাফী-সাকিবদের সুখবর দিলেন প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর পৌরসভার উন্নয়ন কাজ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে আজ চাঁদপুরে এসেছেন সুজিত রায় নন্দী পানিশূন্য হচ্ছে চেন্নাই! বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ‘শত্রু’ কেন আলিম দার? কালো সোনা সাদা করে হাজার কোটি টাকা পাচ্ছে সরকার মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশনে আপত্তি, নার্সকে পেটাল ফার্মেসির লোক দুই জুলাইয়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংসের নির্দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য শূন্যের কোটায় আসবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করেছে হুয়াওয়ে ফেসবুকে প্রতারণা, কঠোর অবস্থানে ডিএসই ভারতকে হারানোর ক্ষমতা আমাদের আছে: সাকিব ওয়াও সাকিব সাকিবের দিনে টাইগারদের জয় আঘাতে শক্তিশালী হয়েছে আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনা জাতির জনকের আদর্শের কর্মী হিসেবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না

বুধবার   ২৬ জুন ২০১৯   আষাঢ় ১৩ ১৪২৬   ২২ শাওয়াল ১৪৪০

দৈনিক চাঁদপুর
সর্বশেষ:
আওয়ামী লীগই দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে: শেখ হাসিনা ব্রাজিল-পেরুর ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সি-পতাকা নিয়ে এক সমর্থক আমার হাত দুটো কব্জি থেকে কেটে দেন : বৃক্ষমানব সজীব ওয়াজেদ জয় গুচ্ছগ্রামে আশ্রয় পেল ১৪০ পরিবার ‘সেই স্বাধীনতার সূর্য আওয়ামী লীগের হাতেই উদিত হয়েছিল’
১৫

বৃদ্ধার কান্না: বাবা-মার সঙ্গে আচরণের বদলা পাচ্ছি হাড়ে হাড়ে

প্রকাশিত: ১১ জুন ২০১৯  

এখন শেষ বয়সে আমি সন্তানদের কাছ থেকে বিতাড়িত। নিঃস্ব স্বজনহীন একাকী জীবনে বৃদ্ধাশ্রমই আমার ঠিকানা। এসবের জন্য আমিই পুরোপুরি দায়ী। কারণ অতীতে আমি আমার বাবা-মার সঙ্গে যা আচরণ করেছি এখন শেষ বয়সে আমার সন্তানদের কাছে থেকে তার বদলা হাড়ে হাড়ে পাচ্ছি।

জীবনের বাস্তবতা উপলব্ধি করে ফেলে আসা স্মৃতি রোমন্থন করে বুক চেপে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে এসব কথাই বলছিলেন ভারতের ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা। 

ওই বৃদ্ধা বললেন, কথাগুলো কোনোদিন কারো কাছে বলিনি। কিন্তু এখন আর পারছি না। অন্তত তোমাদের শিক্ষার জন্য আজ বলব। শেষ জীবনে আমার সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলা, অবজ্ঞা  আর সর্বশেষ ঘরছাড়া হয়ে আজ আমি তা উপলব্ধি করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমার এমন পরিণতির জন্য আমিই দায়ী। সবই আমার দোষ। জীবনে আমি যদি আমার বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো আচরণ করতাম তবে আজ হয়তো আমাকে স্বজনবিহীন হয়ে বৃদ্ধাশ্রমে আসতে হতো না। সন্তানদের কাছে অপমাণিত হতে হতো না।

বৃদ্ধা বলেন, সবই আমার কপাল। আমার কর্মের ফল। যা আজ আমার সন্তানদের কাছ থেকে আমি ফেরত পাচ্ছি। এরপর একটু শান্ত হয়ে বললেন, এখন যদি বাবা-মা বেঁচে থাকতেন, তবে তাদের পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়ে নিতাম। তাতে অন্তত আমার অন্তরের জ্বালা কিছুটা হলেও কমত। কিন্ত তা তো আর সম্ভব না। আমি বুঝতে পারছি এভাবেই মানসিক যন্ত্রণার পুড়ে আমাকে শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হবে।

বৃদ্ধার জীবন সর্ম্পকে জানতে চাইলে তিনি অতীতের কথা বলতে শুরু করেন। বলেন, ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কৃষক পরিবার হওয়ায় সংসারে অর্থকষ্ট লেগেই থাকত। ভাই-বোনদের মধ্যে অত্যন্ত মেধাবী ও লেখাপড়ার প্রতি প্রবল ইচ্ছা থাকায় স্থানীয় পাঠশালায় ভর্তি করে দেন তার পিতা।

প্রতিটি পরীক্ষায় ফলাফলও ভালো করেন। পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চ পদে চাকরিতে যোগ দেন। বিয়ে করেন। এরপর থেকে কারণে-অকারণে বাবা-মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন।

নিজের টাকা পয়সা থাকার পরও তাদের অর্থকষ্টে রেখেছেন। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে বাবা-মা গ্রামে চলে যান। এরপর অভিমানে তারা তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত পিতা-মাতার সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

তিনি বলেন, আজ আমি তাদের জায়গায়। এ বয়সে তাদের চেয়েও করুণ অবস্থায় আছি। আমার তিন সন্তানের সবাই ভালো চাকরি করছে। রাজধানীতে বাড়ির মালিক আমি। অথচ আমার টাকায় করা বাড়ি থেকে আমি বিতাড়িত।

অভিযোগের সুরে বৃদ্ধা বলেন, সন্তানদের কেউই আমার খোঁজ নেয় না। যেদিন বের করে দেয় সেদিন অনেক কেঁদেছি। তাদের বললাম, আমি না হয় বারান্দায় থাকব তবুও আমাকে বের করে দিও না। কিন্তু তারা শুনল না।

চোখ মুছতে মুছতে বৃদ্ধা বললেন, আমার কারণে নাকি তাদের সমস্যা হয়, ঘর নোংরা হয়। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এখন বুঝতে পারছি, এসবই আমার বাবা মায়ের অভিশাপ।

দৈনিক চাঁদপুর
দৈনিক চাঁদপুর