ব্রেকিং:
চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকা হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ইসলাম কখনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও নারী নির্যাতনকে সমর্থন করে না জাপানের উচ্চকক্ষে শিনজো আবে’র জয় প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নয়: ওবায়দুল কাদের ছেলেধরা সন্দেহ হলে গণপিটুনি নয়, ৯৯৯ নম্বরে কল করুন ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্পিকার গত অর্থবছরে প্রায় শতভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে মন্ত্রণালয় ছেলেধরা গুজব বন্ধে সারাদেশে পুলিশের বার্তা ‘রাস্তায় পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না’ সরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ কমেছে: অর্থমন্ত্রী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ থেকে প্রিয়া সাহাকে বহিষ্কার বন্ধুর প্রেমিকাকে চিঠি দিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনি শিকার গুগলের নতুন চমক ‘পিক্সেল ৪’ যানজট নিরসনে মাস্টারপ্ল্যান তৈরির নির্দেশ গাইবান্ধার পাঁচ রাজাকারের রায় যেকোনো দিন কয়লা চুরি: বড়পুকুরিয়ার সাত এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট চাঁদপুরে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে ১১ সিএনজি অটোরিক্সা জব্দ কমিউনিটি পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের প্রথম স্থানে চাঁদপুরের রব দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে: শিল্প প্রতিমন্ত্রী ‘এরশাদের আসনে আওয়ামী লীগ অংশ নেবে’

বুধবার   ২৪ জুলাই ২০১৯   শ্রাবণ ৮ ১৪২৬   ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০

দৈনিক চাঁদপুর
সর্বশেষ:
প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নয়: ওবায়দুল কাদের জাপানের উচ্চকক্ষে শিনজো আবে’র জয় রোহিঙ্গা সংকটে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জমি চাষ করতে গেলেন কৃষক, পেলেন ৬০ লাখ টাকার হিরা! ঈদুল আজহায় ৫ স্থানে পাওয়া যাবে রেলের অগ্রিম টিকিট
৬৪৬

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জাতিসংঘ

প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০১৯  

রাখাইন সংকটে প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকারের জাতিবিদ্বেষী নীতির কারণে ত্রাণ সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে সংস্থাটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধান থেকে জানা গেছে, মিয়ানমারে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী কেনাট ওস্টবি নেপিদোকে চিঠি দিয়ে এই বার্তা জানিয়ে দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়ে যে রোহিঙ্গারা এখনো রাখাইনের শরণার্থী শিবিরে (ইন্টারন্যালি ডিসপ্লেসড পার্সনস-আইডিপি ক্যাম্প) থেকে গেছে, তাদের মৌলিক মানবাধিকার ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দেয়া হবে। মিয়ানমার অবশ্য চিঠিটিকে হুমকি হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, ওই চিঠিতে সহায়তার বার্তা দেয়া হয়েছে।

গত ৬ জুন মিয়ানমার সরকারকে লেখা চিঠিতে দেশটিতে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি বলেছেন, এখন থেকে চলাফেরার স্বাধীনতাসহ মৌলিক ইস্যুতে বাস্তব উন্নতি হলেই কেবল জাতিসংঘ ও তাদের দাতাগোষ্ঠীর সহায়তা সরবরাহ করা হবে। মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ড. উইন মিয়াত আয়ে-কে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, পুরনো ‘বন্ধ থাকা’ এবং নতুন তৈরি করা ক্যাম্পগুলোতে একই অমর্যাদাকর পরিস্থিতি চলছে। সেখানকার বাসিন্দাদের মৌলিক সেবা বা জীবিকার সুযোগ নেই। এমনকি দৃশ্যত অপরিবর্তিত থেকে গেছে ক্যাম্পের অবস্থান।


 
গার্ডিয়ানের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আইডিপি ক্যাম্প বন্ধের কাজ আন্তর্জাতিক মানে আনতে জাতিসংঘ বেশ কয়েক মাস ধরেই মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়ে আসছে। এসব নিয়ে আলোচনা করতে চাইলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ওস্টবির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার সরকার।

তবে মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক উপমন্ত্রী সোয়ে অং দাবি করেছেন, ওস্টবির চিঠিকে জাতিসংঘের সহায়তা প্রত্যাহারের হুমকি হিসেবে দেখছেন না তারা। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সংস্থা এবং আমাদের মন্ত্রণালয় নিবিড় যোগাযোগ রাখছে আর মানবিক সহায়তা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য আমরা খোলামেলাভাবে এবং বারবার আলোচনা করছি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্বপরিকল্পিত ও কাঠামোগত সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ৭ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। জাতিগত নিধনের ভয়াবহ বাস্তবতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় অংশটি বাংলাদেশে পালিয়ে এলেও জাতিসংঘের হিসাবে ৪ লাখেরও বেশি মানুষ এখনও সেখানে থেকে গেছে।


 
দ্য গার্ডিয়ানের হিসাব অনুযায়ী, রাখাইনে থাকা অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ৫ লাখ। ২০১২ সালে রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য স্থাপন করা হয় আইডিপি ক্যাম্প। তখন থেকেই এই ক্যাম্পে সহায়তা দিয়ে আসছে জাতিসংঘ। রোহিঙ্গা ও কামান জনগোষ্ঠীর প্রায় এক লাখ ২৮ হাজার সদস্য এসব ক্যাম্পে বসবাস করে। তবে তাদের চলাফেরায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছে মিয়ানমার সরকার। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাবিরোধী নতুন অভিযান জোরালো করার পাশাপাশি এসব ক্যাম্প বন্ধ শুরুর অঙ্গীকার করে মিয়ানমার সরকার। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। উল্টো অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের পরিস্থিতি দিনকে দিন আরো অবনতির দিকে গেছে।

২০১৮ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘ তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির শিকার হওয়া এসব মানুষ সেখানকার শিবিরে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে জাতিসংঘ-বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন চুক্তি হয়। তবে  মুখে প্রত্যাবাসনের কথা বললেও মিয়ানমার শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেয়নি। একদিকে তারা বুলডোজারে মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত নষ্ট করেছে। চলমান রেখেছে রোহিঙ্গাদের ভূমিতে ‘আদর্শ বৌদ্ধ গ্রাম’ নির্মাণের প্রক্রিয়া; অন্যদিকে তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ভান করে গেছে। ত্রাণ বন্ধের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে মিয়ানমারে কর্মরত জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ক্যাম্প বা তার আশেপাশে স্থায়ী বাড়িঘর নির্মাণে সরকারি পরিকল্পনায় এটা স্পষ্ট, জাতিবিদ্বেষী বিচ্ছিন্নতা স্থায়ী হবে।

দৈনিক চাঁদপুর
দৈনিক চাঁদপুর
এই বিভাগের আরো খবর