বুধবার   ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ২ ১৪২৬   ১৮ মুহররম ১৪৪১

কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা

দৈনিক চাঁদপুর

প্রকাশিত : ০৩:০৬ পিএম, ৩০ জুলাই ২০১৯ মঙ্গলবার

ফরিদগঞ্জে কু-প্রস্তাব ও বিয়েতে রাজি না হওয়ায়, জাহেদা আক্তার মিশু (২০) নামের এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক বখাটে। গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৬টায়, উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমুঘুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে ঘাতক সুজন খান পলাতক রয়েছে। সুজনকে আটক করতে পুলিশ চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে।

নিহত জাহেদা আক্তার মিশু চরমগুয়া এলাকার সেকান্তর মেম্বার বাড়ির মৃত সেলিম বেপারীর (সাদ্দাম) মেয়ে। প্রায় বছর দেড়েক আগে সন্তোষপুর গ্রামের প্রবাসী সোহেলের সাথে মিশুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় মিশু বাবার বাড়িতে থাকতো। বাবার বাড়িতে থাকা অবস্থায় পাশের বাড়ির আবুল বাশারের ছেলে বখাটে সুজন খান (২৮) মিশুকে তার বর্তমান স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে তাকে বিয়ে করার জন্যে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল।

এছাড়াও বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো। কিন্তু মিশু রাজি না হওয়ায় সোমবার ভোরে সুজন খান ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মিশুকে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় মিশুর আর্ত-চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান। সেখানে কর্মরত চিকিৎসক মিশুকে ঢাকায় রেফার করেন। পরে ঢাকা নেয়ার পথে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিশুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর ময়না তদন্তের জন্যে চাঁদপুর মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত মিশুর চাচা আহসান উল্যাহ বলেন, বখাটে সুজন বেশির ভাগ সময় নেশাগ্রস্ত থাকতো। শেষ পর্যন্ত সুজন আমার ভাতিজিকে মেরেই ফেলল। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি জানান, মিশুর পিতা মৃত সেলিম বেপারী (সাদ্দাম) মৃত্যুর পূর্বে ফরিদগঞ্জে পত্রিকা বিলিকারক ছিল।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব বখাটে সুজন কর্তৃক গৃহবধূ মিশুকে কুপিয়ে হত্যা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ঘাতক সুজনের ছোট ভাই সোহেব খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করা হয়েছে। ঘাতক সুজনকে ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।